বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক জেপি মরগান পরিবেশবান্ধব ‘টেকসই তহবিল’ গঠনে জোর দিয়ে থাকে। কিন্তু এ তহবিল থেকে সমালোচিত খনি প্রকল্পে বিনিয়োগ করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুসারে, দক্ষিণ আফ্রিকার গ্লেনকোর প্রকল্পে টেকসই তহবিল থেকে ২০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে জেপি মরগান। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
জেপি মরগান ও অন্য আর্থিক জায়ান্টদের জন্য নৈতিক বিনিয়োগ বড় ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক খাতটির আকার ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের তহবিল থেকে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আজকাল এনভায়রনমেন্ট, স্যোশাল অ্যান্ড গভার্ন্যান্স (ইএসজি) ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়ছে। ইএসজি মানদণ্ডে কোম্পানিগুলোর সামাজিক দায়িত্বশীলতাকে মূল্যায়ন করা হয়।
জানা যাচ্ছে, জেপি মরগানের বেশ কয়েকটি ‘টেকসই তহবিল’ গ্লেনকোরে বিনিয়োগ করছে। এ অনুসন্ধানে যুক্ত ছিল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম, ভক্সইউরোপ ও ডেইলি ম্যাভেরিক।
পরিবেশ বা টেকসই বিনিয়োগের জন্য জেপি মরগানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে পাঁচ শতাধিক তহবিল রয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনে সমাধান অনুসন্ধান থেকে শুরু করে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা বিকাশের মতো তহবিল রয়েছে। কিন্তু বর্তমান নিয়মে এসব তহবিলের কিছু অংশ এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যায়, যেগুলো পরিবেশগতভাবে ক্ষতিকারক কার্যক্রমে জড়িত।
জেপি মরগান বেশ কয়েকটি টেকসই ফান্ডে উল্লেখ করেছে, অন্তত ৫১ শতাংশ বিনিয়োগের মধ্যে পরিবেশগত ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। বাকি ৪৯ শতাংশ এমন বিনিয়োগে করা যেতে পারে যার ওপর এমন কোনো বিধিনিষেধ নেই।
জেপি মরগানের টেকসই তহবিল এমন কোম্পানিকে বাদ দেয়, সাধারণত যাদের আয়ের ২০ শতাংশের বেশি তাপীয় কয়লা উত্তোলন থেকে আসে। পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম কয়লা কোম্পানি গ্লেনকোর আয়ের সীমা এর কম হলেও কিন্তু কোম্পানির মুনাফার অর্ধেক থেকে আসে খনি থেকে। তাই এ বিনিয়োগ পরিবেশবাদীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।